| বিশ্লেষণ

সংসদে আবারো একাধিক বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ালেন এমপি রুমিন ফারহানা

১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সংসদে আবারো একাধিক বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ালেন এমপি রুমিন ফারহানা


জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে নির্বাচিত স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা দাবি করেছেন যে, বিএনপি সরকারের চরিত্র হলো দুর্নীতিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়া এবং দেশে রেকর্ড পরিমাণ ঋণ খেলাপি সৃষ্টি হওয়া। ৯ সেপ্টেম্বর সংসদ অধিবেশনে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।

বাংলাফ্যাক্ট-এর যাচাইয়ে দেখা যায়, রুমিন ফারহানার এই দাবিটি অত্যন্ত বিভ্রান্তিকর। ২০০১ সালে বাংলাদেশ প্রথম দুর্নীতিতে শীর্ষস্থান পাওয়ার পেছনে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের তথ্য-উপাত্ত দায়ী ছিল এবং পরবর্তীতে বিএনপি আমলে দুর্নীতি সূচকে ধারাবাহিক উন্নতি ও স্বাধীন দুদক গঠিত হয়। অন্যদিকে, সম্প্রতি প্রকাশিত বিপুল খেলাপি ঋণের চিত্রটি মূলত বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চালানো পুকুরচুরির ফল, যা সম্প্রতি স্বাধীন অডিটের কারণে বর্তমানে সামনে এসেছে। 

সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, “প্রত্যেকটা সরকারের একটা চরিত্র থাকে। বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট হবে না, এটা হতে পারে না। বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর সারের সংকট হবে না, গরিব কৃষক সার লুট করবেন না, সেটাও হতে পারে না। বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর দুর্নীতিতে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হবে না, সেটাও হওয়া সম্ভব না। বিএনপি ক্ষমতায় আসবে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো ঋণ খেলাপিতে সর্বোচ্চ স্থান অর্জন করবে না, সেটাও হতে পারে না। সুতরাং বিএনপি ক্ষমতায় আসা মানে ঋণ খেলাপিতে সর্বোচ্চ হওয়া।"

রুমিন ফারহানার এই বক্তব্যে দুটি প্রধান বিভ্রান্তিকর তথ্য চিহ্নিত করেছে বাংলাফ্যাক্ট:

১. ২০০১ সালে ‘দুর্নীতিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন’ খেতাবের আসল প্রেক্ষাপট: বার্লিনভিত্তিক সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (TI)-এর ‘করাপশন পারসেপশন ইনডেক্স’ (CPI) বা দুর্নীতি ধারণা সূচক অনুযায়ী, ২০০১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত টানা পাঁচ বছর বাংলাদেশ তালিকার সর্বনিম্নে (সর্বাধিক দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ) অবস্থান করেছিল। রাজনৈতিকভাবে এটিকে প্রায়শই ২০০১-২০০৬ সালের বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের দায় হিসেবে প্রচার করা হয়।


তবে টিআই-এর সূচক তৈরির পদ্ধতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০০১ সালে বাংলাদেশ যখন প্রথমবার তালিকার তলানিতে স্থান পায়, তখন সেই সূচকটি তৈরি করা হয়েছিল পূর্ববর্তী ৩ বছরের (১৯৯৮-২০০০) দুর্নীতির তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে। উক্ত সময়জুড়ে রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। ফলে ২০০১ সালের প্রথম বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পেছনে মূল দায়ে ছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনকাল। 

২০০১ সালের অক্টোবরে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশের স্কোর ছিল ০.৪। স্কোর যত কম, দুর্নীতি তত বেশি বোঝায়। পড়ে সরকারের নেওয়া নানামুখী প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ফলে ২০০৫ সালে স্কোর বেড়ে ১.৭ এবং পরবর্তীতে ২.০-এ উন্নীত হয়। অর্থাৎ, বিএনপি সরকারের আমলে দুর্নীতির হার ক্রমান্বয়ে কমতে থাকে। এমনকি দুর্নীতি দমনে প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি মজবুত করতে বিএনপি সরকারের আমলেই ২০০৪ সালে স্বাধীন ‘দুর্নীতি দমন কমিশন’ (দুদক) গঠন করা হয়। 


২. খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র আড়াল: রুমিন ফারহানা দাবি করেন যে বিএনপি ক্ষমতায় আসা মানেই ঋণ খেলাপিতে সর্বোচ্চ হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে ব্যাংকিং খাতের যে সংকট ও উচ্চ খেলাপি ঋণের চিত্র দেখা যাচ্ছে, তার উৎস বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘদিনের নীতিগত অব্যবস্থাপনা। 

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বারবার বিশেষ নীতিগত ছাড়, পুনঃ তফসিল (Rescheduling) এবং হিসাবগত কারসাজির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ মন্দ ও বেনামি ঋণকে কৃত্রিমভাবে ‘নিয়মিত ঋণ’ হিসেবে দেখানো হতো।

জুলাই অভ্যুত্থানের পর নতুন প্রেক্ষাপটে ব্যাংকগুলোর সম্পদের মান পর্যালোচনা (Asset Quality Review) এবং দেশি-বিদেশি স্বাধীন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গভীর নিরীক্ষা (Audit) চালানো হয়। এর ফলে এতদিন আড়ালে থাকা জালিয়াতি, নীতিগত ছাড়ের মাধ্যমে গোপন রাখা খেলাপি ঋণ ও অনিয়মের প্রকৃত চিত্র উন্মোচিত হয়। এটি কোনো নতুন সরকারের তৈরি খেলাপি নয়, বরং দীর্ঘদিনের জমানো অনিয়মের পর্দা উন্মোচন। এটি নিয়ে বাংলাফ্যাক্টের বিশ্লেষণ দেখুন এখানে।


ইতোপূর্বেও সংসদে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়েছেন রুমিন ফারহানা


সংসদে রুমিন ফারহানার বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। ইতোপূর্বে তিনি দাবি করেছিলেন যে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার প্রথম ছয় মাসের মধ্যে দেশে ৬২ হাজার মানুষ চাকরি হারিয়েছেন এবং ৯ শতাধিক কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। 

বাংলাফ্যাক্টের পূর্ববর্তী অনুসন্ধানে দেখা যায়, এই তথ্যটিও সঠিক ছিল না। কারখানা বন্ধ ও চাকরি হারানোর এই ঘটনাগুলো অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের সময়ের ছিল এবং সেসময় বন্ধ হওয়া কারখানার প্রকৃত সংখ্যা ছিল ৯৫টি, ৯ শতাধিক নয়।





Topics:



৩১ বছরের ময়নাতদন্তকারী ডাক্তারের নামে প্রচারিত পরজীবী ও বায়োফিল্মের গল্পটি ভুয়া
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৩১ বছরের ময়নাতদন্তকারী ডাক্তারের নামে প্রচারিত পরজীবী ও বায়োফিল্মের গল্পটি ভুয়া

মার্কিন কর্মকর্তার বক্তব্যের অপব্যাখ্যা করে কাল্পনিক বয়ান ছড়াচ্ছেন সালাহউদ্দীন শোয়েব চৌধুরী
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মার্কিন কর্মকর্তার বক্তব্যের অপব্যাখ্যা করে কাল্পনিক বয়ান ছড়াচ্ছেন সালাহউদ্দীন শোয়েব চৌধুরী

নিরঞ্জনকে হত্যার কারণ উদঘাটনের আগেই সাম্প্রদায়িক রঙ চড়িয়ে সংবাদ প্রকাশ করল ভারতীয় গণমাধ্যম
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিরঞ্জনকে হত্যার কারণ উদঘাটনের আগেই সাম্প্রদায়িক রঙ চড়িয়ে সংবাদ প্রকাশ করল ভারতীয় গণমাধ্যম



নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তারের কারণে নয়, গ্রেপ্তারে অবহেলার অভিযোগে এসআই ক্লোজড
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তারের কারণে নয়, গ্রেপ্তারে অবহেলার অভিযোগে এসআই ক্লোজড

ইউপি নির্বাচনের সম্ভ্যাব্য সময়সূচির সাথে শেখ হাসিনার কথিত প্রত্যাবর্তনের খবর জড়িয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমের ভিত্তিহীন প্রচারণা
২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইউপি নির্বাচনের সম্ভ্যাব্য সময়সূচির সাথে শেখ হাসিনার কথিত প্রত্যাবর্তনের খবর জড়িয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমের ভিত্তিহীন প্রচারণা

আপনার মতামত দিন

এই পোস্টটি কি আপনার জন্য সহায়ক ছিল?

এখনো কেউ ভোট দেয়নি। আপনিই প্রথম হোন!

0%

0%

আপনার মতামত শেয়ার করুন:

| মন্তব্য সমূহ:

এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!



সংসদে আবারো একাধিক বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ালেন এমপি রুমিন ফারহানা

বিশ্লেষণ

সংসদে আবারো একাধিক বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ালেন এমপি রুমিন ফারহানা

১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

<p>সংসদে আবারো একাধিক বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ালেন এমপি রুমিন ফারহানা<br /></p>


জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে নির্বাচিত স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা দাবি করেছেন যে, বিএনপি সরকারের চরিত্র হলো দুর্নীতিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়া এবং দেশে রেকর্ড পরিমাণ ঋণ খেলাপি সৃষ্টি হওয়া। ৯ সেপ্টেম্বর সংসদ অধিবেশনে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।

বাংলাফ্যাক্ট-এর যাচাইয়ে দেখা যায়, রুমিন ফারহানার এই দাবিটি অত্যন্ত বিভ্রান্তিকর। ২০০১ সালে বাংলাদেশ প্রথম দুর্নীতিতে শীর্ষস্থান পাওয়ার পেছনে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের তথ্য-উপাত্ত দায়ী ছিল এবং পরবর্তীতে বিএনপি আমলে দুর্নীতি সূচকে ধারাবাহিক উন্নতি ও স্বাধীন দুদক গঠিত হয়। অন্যদিকে, সম্প্রতি প্রকাশিত বিপুল খেলাপি ঋণের চিত্রটি মূলত বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চালানো পুকুরচুরির ফল, যা সম্প্রতি স্বাধীন অডিটের কারণে বর্তমানে সামনে এসেছে। 

সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, “প্রত্যেকটা সরকারের একটা চরিত্র থাকে। বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট হবে না, এটা হতে পারে না। বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর সারের সংকট হবে না, গরিব কৃষক সার লুট করবেন না, সেটাও হতে পারে না। বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর দুর্নীতিতে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হবে না, সেটাও হওয়া সম্ভব না। বিএনপি ক্ষমতায় আসবে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো ঋণ খেলাপিতে সর্বোচ্চ স্থান অর্জন করবে না, সেটাও হতে পারে না। সুতরাং বিএনপি ক্ষমতায় আসা মানে ঋণ খেলাপিতে সর্বোচ্চ হওয়া।"

রুমিন ফারহানার এই বক্তব্যে দুটি প্রধান বিভ্রান্তিকর তথ্য চিহ্নিত করেছে বাংলাফ্যাক্ট:

১. ২০০১ সালে ‘দুর্নীতিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন’ খেতাবের আসল প্রেক্ষাপট: বার্লিনভিত্তিক সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (TI)-এর ‘করাপশন পারসেপশন ইনডেক্স’ (CPI) বা দুর্নীতি ধারণা সূচক অনুযায়ী, ২০০১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত টানা পাঁচ বছর বাংলাদেশ তালিকার সর্বনিম্নে (সর্বাধিক দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ) অবস্থান করেছিল। রাজনৈতিকভাবে এটিকে প্রায়শই ২০০১-২০০৬ সালের বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের দায় হিসেবে প্রচার করা হয়।


তবে টিআই-এর সূচক তৈরির পদ্ধতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০০১ সালে বাংলাদেশ যখন প্রথমবার তালিকার তলানিতে স্থান পায়, তখন সেই সূচকটি তৈরি করা হয়েছিল পূর্ববর্তী ৩ বছরের (১৯৯৮-২০০০) দুর্নীতির তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে। উক্ত সময়জুড়ে রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। ফলে ২০০১ সালের প্রথম বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পেছনে মূল দায়ে ছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনকাল। 

২০০১ সালের অক্টোবরে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশের স্কোর ছিল ০.৪। স্কোর যত কম, দুর্নীতি তত বেশি বোঝায়। পড়ে সরকারের নেওয়া নানামুখী প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ফলে ২০০৫ সালে স্কোর বেড়ে ১.৭ এবং পরবর্তীতে ২.০-এ উন্নীত হয়। অর্থাৎ, বিএনপি সরকারের আমলে দুর্নীতির হার ক্রমান্বয়ে কমতে থাকে। এমনকি দুর্নীতি দমনে প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি মজবুত করতে বিএনপি সরকারের আমলেই ২০০৪ সালে স্বাধীন ‘দুর্নীতি দমন কমিশন’ (দুদক) গঠন করা হয়। 


২. খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র আড়াল: রুমিন ফারহানা দাবি করেন যে বিএনপি ক্ষমতায় আসা মানেই ঋণ খেলাপিতে সর্বোচ্চ হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে ব্যাংকিং খাতের যে সংকট ও উচ্চ খেলাপি ঋণের চিত্র দেখা যাচ্ছে, তার উৎস বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘদিনের নীতিগত অব্যবস্থাপনা। 

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বারবার বিশেষ নীতিগত ছাড়, পুনঃ তফসিল (Rescheduling) এবং হিসাবগত কারসাজির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ মন্দ ও বেনামি ঋণকে কৃত্রিমভাবে ‘নিয়মিত ঋণ’ হিসেবে দেখানো হতো।

জুলাই অভ্যুত্থানের পর নতুন প্রেক্ষাপটে ব্যাংকগুলোর সম্পদের মান পর্যালোচনা (Asset Quality Review) এবং দেশি-বিদেশি স্বাধীন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গভীর নিরীক্ষা (Audit) চালানো হয়। এর ফলে এতদিন আড়ালে থাকা জালিয়াতি, নীতিগত ছাড়ের মাধ্যমে গোপন রাখা খেলাপি ঋণ ও অনিয়মের প্রকৃত চিত্র উন্মোচিত হয়। এটি কোনো নতুন সরকারের তৈরি খেলাপি নয়, বরং দীর্ঘদিনের জমানো অনিয়মের পর্দা উন্মোচন। এটি নিয়ে বাংলাফ্যাক্টের বিশ্লেষণ দেখুন এখানে।


ইতোপূর্বেও সংসদে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়েছেন রুমিন ফারহানা


সংসদে রুমিন ফারহানার বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। ইতোপূর্বে তিনি দাবি করেছিলেন যে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার প্রথম ছয় মাসের মধ্যে দেশে ৬২ হাজার মানুষ চাকরি হারিয়েছেন এবং ৯ শতাধিক কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। 

বাংলাফ্যাক্টের পূর্ববর্তী অনুসন্ধানে দেখা যায়, এই তথ্যটিও সঠিক ছিল না। কারখানা বন্ধ ও চাকরি হারানোর এই ঘটনাগুলো অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের সময়ের ছিল এবং সেসময় বন্ধ হওয়া কারখানার প্রকৃত সংখ্যা ছিল ৯৫টি, ৯ শতাধিক নয়।