| বিশ্লেষণ
আওয়ামী লীগের তুরাগ নদে 'গণহত্যা'র সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন প্রচারণা
২৭ জুন ২০২৬
গত ২৬ জুন শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে ফেসবুকে 'তুরাগ গণহত্যা' নামে একটি দাবি ছড়িয়ে পড়ছে। আওয়ামী লীগ ও সজীব ওয়াজেদ জয়ের ভেরিফায়েড পেজ সহ কিছু আওয়ামীপন্থি পেজ থেকে দাবি করা হচ্ছে, ২২ জুন যুবলীগের মিছিল থেকে সাতজনকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যাদের মধ্যে তিনজনের লাশ তুরাগ নদ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং চারজন এখনও নিখোঁজ। নিহত তিনজনের নাম হিসেবে আরিফুল, সুমন ও বিপ্লবের নাম উল্লেখ করা হয়েছে বিভিন্ন পোস্টে।
তবে বাংলাফ্যাক্ট যাচাই করে এমন দাবির সত্যতা পায়নি।
সুমনের মৃত্যুঃ আওয়ামী লীগ যে সুমন আহমেদের নাম উল্লেখ করেছে, সেই নামের কারো মরদেহ পাওয়া যায়নি। তুরাগের রানাবোলার বাসিন্দা মো সুমন নামের এক ব্যক্তির মরদেহ ২৫ জুন উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবারের বক্তব্য এবং তার ভাইয়ের দায়ের করা অপমৃত্যু মামলা অনুযায়ী, সুমন ২৫ জুন পিকনিকে গিয়ে ট্রলার থেকে নামার সময় তুরাগ নদীতে পড়ে যান এবং নিখোঁজ হন। ৯৯৯-এ কল করার পর সেই রাতেই তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার ভাই একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছেন। আশুলিয়া থানার ওসি বাংলাফ্যাক্টকে নিশ্চিত করেছেন যে পরিবারের দাবি অনুযায়ী পিকনিকে পানিতে পড়েই তার মৃত্যু হয়েছে এবং তার কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কথা পুলিশের জানা নেই।
আরিফুলের মৃত্যুঃ আরিফুল নামের কারো মৃত্যুর কোনো সংবাদ পাওয়া যায়নি বলে বাংলাফ্যাক্টকে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তবে গত ২৪ জুন নৌ পুলিশ তুরাগ নদ থেকে আরিফ হাসান রাকিব নামের একজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। তার কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কথা তার পরিবার জানতেন না। নৌ পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধারের কথা নিশ্চিত করেছে। তার চাচা একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছেন।
বিপ্লবের মৃত্যুঃ আশুলিয়া থানার ওসি বাংলাফ্যাক্টকে এ বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন যে বিপ্লব নামের কারো মৃত্যুর খবর জানা যায় নি।
এছাড়া তুরাগ নদ থেকে গোসলের সময় রনি মোল্লা নামের একজন পানিতে ডুবে মারা যায়। তার মৃত্যুতে সাভার মডেল থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি
বাংলাদেশ পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, তুরাগ নদীতে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ কর্মীদের লাশ ভাসছে মর্মে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে তথ্য প্রচার হচ্ছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং এ ধরনের কোনো ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, “তুরাগ নদে ভাসছে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের সাত নেতা-কর্মীর লাশ’ শিরোনামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে এ ধরনের কোনো ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। এ ধরনের মিথ্যা অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সবার প্রতি বাংলাদেশ পুলিশ অনুরোধ জানাচ্ছে।”
একইসাথে গাজীপুর মহানগর পুলিশ বিবৃতিতে জানিয়েছে, “‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত এ ধরনের অপপ্রচারে কেউ যেন বিভ্রান্ত না হন। একই সঙ্গে মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে পুলিশ তৎপর রয়েছে।”
কাজেই 'তুরাগ গণহত্যা' একটি সুপরিকল্পিত অপতথ্য প্রচারণা। একটি দুর্ঘটনায় মৃত যুবকের পরিচয় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে এবং এমন দুজন নিহত ব্যক্তির নাম প্রচার করা হয়েছে যাদের অস্তিত্বের কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই। পুলিশের তথ্য, পরিবারের বক্তব্য, অপমৃত্যু মামলার নথি এবং প্রকাশিত গণমাধ্যম প্রতিবেদন সবকিছুই এই প্রচারণার দাবিকে মিথ্যা প্রমাণ করে।
Topics:
হাসিনা প্রকাশ্যে আসবে, এমন বয়ান আগেও ছড়িয়েছে আওয়ামী লীগ ও ভারতীয় মিডিয়া
পলাতক স্বৈরাচার শেখ হাসিনার অপরাধ আড়াল করে তাঁর প্রত্যাবর্তন ঘিরে ভারতীয় মিডিয়ার বন্দনা
এক অপহরণের ঘটনা যেভাবে ভারতীয় মিডিয়া ফার্স্ট পোস্টে হয়ে গেল হিন্দু পুরোহিতের ওপর সাম্প্রদায়িক নিপীড়ন
এক অপহরণের ঘটনা যেভাবে ভারতীয় মিডিয়া ফার্স্ট পোস্টে হয়ে গেল হিন্দু পুরোহিতের ওপর সাম্প্রদায়িক নিপীড়ন
মেটা ভেরিফায়েড হলেও “নতুন কুঁড়ি” পেইজটি নকল, অফিসিয়াল পেইজের নাম ‘BTV Notun Kuri’
আপনার মতামত দিন
এই পোস্টটি কি আপনার জন্য সহায়ক ছিল?
এখনো কেউ ভোট দেয়নি। আপনিই প্রথম হোন!
0%
0%
আপনার মতামত শেয়ার করুন:
| মন্তব্য সমূহ:
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!
| আরও পড়ুন
'গ্রেটার বাংলাদেশ' গুজব: ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বক্তব্যে বাংলাফ্যাক্ট এবং বাংলাদেশের গণমাধ্যম
যুবদল নেতা হত্যার ঘটনাকে ভারতীয় মিডিয়ায় হাসিনার রায় পরবর্তী সহিংসতা হিসেবে প্রচার
হত্যা মামলার পরিসংখ্যানকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিভ্রান্তিকর উপস্থাপন
গোবিন্দ প্রামাণিকের মনোনয়ন বাতিল-
স্বাক্ষর সঠিক না থাকার কারণকে ধর্মীয় কারণ বলে প্রচার ভারতীয় মিডিয়ায়
বিশ্লেষণ
আওয়ামী লীগের তুরাগ নদে 'গণহত্যা'র সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন প্রচারণা
২৭ জুন ২০২৬
গত ২৬ জুন শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে ফেসবুকে 'তুরাগ গণহত্যা' নামে একটি দাবি ছড়িয়ে পড়ছে। আওয়ামী লীগ ও সজীব ওয়াজেদ জয়ের ভেরিফায়েড পেজ সহ কিছু আওয়ামীপন্থি পেজ থেকে দাবি করা হচ্ছে, ২২ জুন যুবলীগের মিছিল থেকে সাতজনকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যাদের মধ্যে তিনজনের লাশ তুরাগ নদ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং চারজন এখনও নিখোঁজ। নিহত তিনজনের নাম হিসেবে আরিফুল, সুমন ও বিপ্লবের নাম উল্লেখ করা হয়েছে বিভিন্ন পোস্টে।
তবে বাংলাফ্যাক্ট যাচাই করে এমন দাবির সত্যতা পায়নি।
সুমনের মৃত্যুঃ আওয়ামী লীগ যে সুমন আহমেদের নাম উল্লেখ করেছে, সেই নামের কারো মরদেহ পাওয়া যায়নি। তুরাগের রানাবোলার বাসিন্দা মো সুমন নামের এক ব্যক্তির মরদেহ ২৫ জুন উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবারের বক্তব্য এবং তার ভাইয়ের দায়ের করা অপমৃত্যু মামলা অনুযায়ী, সুমন ২৫ জুন পিকনিকে গিয়ে ট্রলার থেকে নামার সময় তুরাগ নদীতে পড়ে যান এবং নিখোঁজ হন। ৯৯৯-এ কল করার পর সেই রাতেই তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার ভাই একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছেন। আশুলিয়া থানার ওসি বাংলাফ্যাক্টকে নিশ্চিত করেছেন যে পরিবারের দাবি অনুযায়ী পিকনিকে পানিতে পড়েই তার মৃত্যু হয়েছে এবং তার কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কথা পুলিশের জানা নেই।
আরিফুলের মৃত্যুঃ আরিফুল নামের কারো মৃত্যুর কোনো সংবাদ পাওয়া যায়নি বলে বাংলাফ্যাক্টকে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তবে গত ২৪ জুন নৌ পুলিশ তুরাগ নদ থেকে আরিফ হাসান রাকিব নামের একজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। তার কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কথা তার পরিবার জানতেন না। নৌ পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধারের কথা নিশ্চিত করেছে। তার চাচা একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছেন।
বিপ্লবের মৃত্যুঃ আশুলিয়া থানার ওসি বাংলাফ্যাক্টকে এ বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন যে বিপ্লব নামের কারো মৃত্যুর খবর জানা যায় নি।
এছাড়া তুরাগ নদ থেকে গোসলের সময় রনি মোল্লা নামের একজন পানিতে ডুবে মারা যায়। তার মৃত্যুতে সাভার মডেল থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি
বাংলাদেশ পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, তুরাগ নদীতে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ কর্মীদের লাশ ভাসছে মর্মে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে তথ্য প্রচার হচ্ছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং এ ধরনের কোনো ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, “তুরাগ নদে ভাসছে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের সাত নেতা-কর্মীর লাশ’ শিরোনামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে এ ধরনের কোনো ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। এ ধরনের মিথ্যা অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সবার প্রতি বাংলাদেশ পুলিশ অনুরোধ জানাচ্ছে।”
একইসাথে গাজীপুর মহানগর পুলিশ বিবৃতিতে জানিয়েছে, “‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত এ ধরনের অপপ্রচারে কেউ যেন বিভ্রান্ত না হন। একই সঙ্গে মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে পুলিশ তৎপর রয়েছে।”
কাজেই 'তুরাগ গণহত্যা' একটি সুপরিকল্পিত অপতথ্য প্রচারণা। একটি দুর্ঘটনায় মৃত যুবকের পরিচয় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে এবং এমন দুজন নিহত ব্যক্তির নাম প্রচার করা হয়েছে যাদের অস্তিত্বের কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই। পুলিশের তথ্য, পরিবারের বক্তব্য, অপমৃত্যু মামলার নথি এবং প্রকাশিত গণমাধ্যম প্রতিবেদন সবকিছুই এই প্রচারণার দাবিকে মিথ্যা প্রমাণ করে।