| ফ্যাক্ট চেক | ধর্মীয়
হিন্দু ধর্মাবলম্বী নারীকে তার বাবার সামনে ধর্ষণের দাবি করে ছড়ানো ভিডিওটি ভিন্ন ঘটনার
২৪ আগস্ট ২০২৬
বাংলাদেশে এক হিন্দু ধর্মাবলম্বী নারীকে তার বাবার সামনে ধর্ষণের পর সেই নারী ঘটনার বর্ণনা দিচ্ছেন আর তার বাবা কান্না করছেন - এমন দাবি করে ভারতীয় এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে একটি ভিডিও ছড়ানো হচ্ছে। তবে বাংলাফ্যাক্ট যাচাই করে দেখেছে, হিন্দু ধর্মাবলম্বী নারীকে ধর্ষণের দাবি করে ছড়ানো ভিডিওটি ভিন্ন ঘটনার। প্রকৃতপক্ষে, কুমিল্লায় কিস্তির টাকা পরিশোধ সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক দম্পতিকে মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগের ঘটনা এটি। এই ঘটনায় অভিযুক্তদের একজন হিন্দু ধর্মাবলম্বী।
ভিডিওটির বিষয়ে অনুসন্ধান চালালে, গত ১৫ মে Dristikon নামে একটি ফেসবুক পেজে একই ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। ভিডিওটির ক্যাপশন থেকে জানা যায়, কিস্তির টাকা না পেয়ে এনজিও কর্মী গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে।
একই বিষয়ে কুমিল্লার স্থানীয় অনলাইন পোর্টাল কুমিল্লা প্রতিদিন- এর ওয়েবসাইটে গত ১৩ মে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, কুমিল্লা শহরের সদর গোয়ালপট্টি এলাকায় কিস্তির টাকা পরিশোধে দেরি হওয়ার জেরে বেসরকারি সংস্থা ‘পল্লী মঙ্গল কর্মসূচি’র কয়েকজন মাঠকর্মীর বিরুদ্ধে রিনা রানী সাহা ও তাঁর স্বামী শ্যামল চন্দ্র সরকার নামে এক দম্পতিকে মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠে। এ ঘটনায় জিম্মাদারসহ চারজনের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে ভুক্তভোগী শ্যামল চন্দ্র সরকার। অভিযোগে বলা হয়, ঘটনাটি গত ৩০ এপ্রিল রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ঘটে। অভিযুক্তরা হলেন, মিরাজ হোসেন, রাহিদ, ইতি দেবনাথ ও রোকসানা আক্তার।
অভিযোগে বলা হয়েছে, রিনা রানী সাহা পল্লী মঙ্গল কর্মসূচি থেকে ৮০ হাজার টাকার ঋণ গ্রহণ করেন। তিনি নিয়মিতভাবে মাসিক ৮ হাজার টাকা করে ছয়টি কিস্তি পরিশোধ করলেও পরবর্তী তিনটি কিস্তি সময়মতো দিতে পারেননি। কিস্তির টাকা নিতে মাঠকর্মীরা গোয়ালপট্টি এলাকায় তাদের ভাড়া বাসায় যান। এসময় ভুক্তভোগী দম্পতি পরের মাস থেকে বকেয়া কিস্তি পরিশোধের আশ্বাস দিলেও অভিযুক্তরা তা না মেনে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ইতি দেবনাথ ও রোকসানা আক্তার মিলে রিনা রানী সাহাকে মারধর করেন।
অর্থাৎ, ছড়ানো ভিডিওর দাবিটি মিথ্যা।
Topics:
হাটহাজারীতে বৈদুতিক গোলযোগজনিত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে ‘বাংলাদেশে হিন্দু নিধন’ দাবি করে অপপ্রচার
মুসলিম নারীর ওপর হামলার ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক ঘটনা দাবি করে প্রচার
শ্রীপুরের হারিন্দি গ্রামে হিন্দু নারীকে ধর্ষণের পর হত্যার দাবিটি মিথ্যা
পাহাড়ে মুসলিমদের বাড়িতে আগুন দেওয়ার ভিডিওকে ভুল তথ্য জুড়ে প্রচার
বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর ইসলামপন্থীদের হামলার দাবিটি মিথ্যা;
ছড়ানো ভিডিওটি ভারতের আসামের
আপনার মতামত দিন
এই পোস্টটি কি আপনার জন্য সহায়ক ছিল?
এখনো কেউ ভোট দেয়নি। আপনিই প্রথম হোন!
0%
0%
আপনার মতামত শেয়ার করুন:
| মন্তব্য সমূহ:
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!
| আরও পড়ুন
মুসলিম নারীর ওপর হামলার ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক ঘটনা দাবি করে প্রচার
পথনাটকে অভিনয়ের দৃশ্যকে দেশে হিন্দু তরুণী মুখ বেঁধে নির্যাতনের দাবি করে প্রচার
গফরগাঁওয়ে মসজিদে শর্টসার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে দুর্বৃত্তদের অগ্নিসংযোগ বলে প্রচার
বিয়ে বাড়িতে চাঁদাবাজি্র ঘটনাকে ‘জিজিয়া কর’ হিসেবে প্রচার ভারতীয় গণমাধ্যমে
ফ্যাক্ট চেক
হিন্দু ধর্মাবলম্বী নারীকে তার বাবার সামনে ধর্ষণের দাবি করে ছড়ানো ভিডিওটি ভিন্ন ঘটনার
২৪ আগস্ট ২০২৬
বাংলাদেশে এক হিন্দু ধর্মাবলম্বী নারীকে তার বাবার সামনে ধর্ষণের পর সেই নারী ঘটনার বর্ণনা দিচ্ছেন আর তার বাবা কান্না করছেন - এমন দাবি করে ভারতীয় এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে একটি ভিডিও ছড়ানো হচ্ছে। তবে বাংলাফ্যাক্ট যাচাই করে দেখেছে, হিন্দু ধর্মাবলম্বী নারীকে ধর্ষণের দাবি করে ছড়ানো ভিডিওটি ভিন্ন ঘটনার। প্রকৃতপক্ষে, কুমিল্লায় কিস্তির টাকা পরিশোধ সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক দম্পতিকে মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগের ঘটনা এটি। এই ঘটনায় অভিযুক্তদের একজন হিন্দু ধর্মাবলম্বী।
ভিডিওটির বিষয়ে অনুসন্ধান চালালে, গত ১৫ মে Dristikon নামে একটি ফেসবুক পেজে একই ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। ভিডিওটির ক্যাপশন থেকে জানা যায়, কিস্তির টাকা না পেয়ে এনজিও কর্মী গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে।
একই বিষয়ে কুমিল্লার স্থানীয় অনলাইন পোর্টাল কুমিল্লা প্রতিদিন- এর ওয়েবসাইটে গত ১৩ মে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, কুমিল্লা শহরের সদর গোয়ালপট্টি এলাকায় কিস্তির টাকা পরিশোধে দেরি হওয়ার জেরে বেসরকারি সংস্থা ‘পল্লী মঙ্গল কর্মসূচি’র কয়েকজন মাঠকর্মীর বিরুদ্ধে রিনা রানী সাহা ও তাঁর স্বামী শ্যামল চন্দ্র সরকার নামে এক দম্পতিকে মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠে। এ ঘটনায় জিম্মাদারসহ চারজনের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে ভুক্তভোগী শ্যামল চন্দ্র সরকার। অভিযোগে বলা হয়, ঘটনাটি গত ৩০ এপ্রিল রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ঘটে। অভিযুক্তরা হলেন, মিরাজ হোসেন, রাহিদ, ইতি দেবনাথ ও রোকসানা আক্তার।
অভিযোগে বলা হয়েছে, রিনা রানী সাহা পল্লী মঙ্গল কর্মসূচি থেকে ৮০ হাজার টাকার ঋণ গ্রহণ করেন। তিনি নিয়মিতভাবে মাসিক ৮ হাজার টাকা করে ছয়টি কিস্তি পরিশোধ করলেও পরবর্তী তিনটি কিস্তি সময়মতো দিতে পারেননি। কিস্তির টাকা নিতে মাঠকর্মীরা গোয়ালপট্টি এলাকায় তাদের ভাড়া বাসায় যান। এসময় ভুক্তভোগী দম্পতি পরের মাস থেকে বকেয়া কিস্তি পরিশোধের আশ্বাস দিলেও অভিযুক্তরা তা না মেনে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ইতি দেবনাথ ও রোকসানা আক্তার মিলে রিনা রানী সাহাকে মারধর করেন।
অর্থাৎ, ছড়ানো ভিডিওর দাবিটি মিথ্যা।