| ফ্যাক্ট চেক | রাজনীতি
প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে মির্জা ফখরুলকে শেখ হাসিনার ৫০ লাখ টাকা সহায়তা দাবি করে ছড়ানো চেকটি ভুয়া
২৩ আগস্ট ২০২৬
২০২৩ সালের ভুয়া তথ্য নতুন করে প্রচার করছে আওয়ামীপন্থীরা
আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) আমলে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে চিকিৎসা সহায়তা হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ৫০ লাখ টাকা দিয়েছিলেন - এমন দাবি করে একটি ব্যাংক চেকের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে
বাংলাফ্যাক্ট যাচাই করে দেখেছে, চেকটি ভুয়া। ২০২২ সালে ঢাকা আইনজীবী সমিতিকে বার কাউন্সিলের আইনজীবী প্রণোদনা তহবিল থেকে দেওয়া একটি চেক সম্পাদনা করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে জড়িয়ে ভুয়া এই চেক তৈরি করা হয়েছে।
অনুসন্ধানের শুরুতেই চেকটিতে অসামঞ্জস্যতা চোখে পড়ে। যেমন, চেকটির এক স্থানে অ্যাকাউন্ট নম্বর 4435403007037 এবং তার নিচের লাইনে 4435403000037 লেখা রয়েছে। অর্থাৎ, একই চেকের অ্যাকাউন্ট নম্বরের শেষ চার সংখ্যা এক জায়গায় 7037 এবং অন্য জায়গায় 0037 লিখা হয়েছে।
পরবর্তীতে কথিত চেকের বিষয়ে অনুসন্ধানে রিভার্স ইমেরজ সার্চের মাধ্যমে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ওয়েবসাইটে ২০২২ সালের ২৪ মে “ঢাকা আইনজীবী সমিতিকে ছয় কোটি সত্তর লক্ষ পনের হাজার আটশত পঁচাত্তর টাকার আইনজীবী প্রণোদনার চেক প্রদানের মাধ্যমে বার কাউন্সিল হতে প্রণোদনা অর্থ বিতরণ শুরু হল” শিরোনামে প্রচারিত বিঞ্জপ্তিতে একটি চেক খুঁজে পাওয়া যায়।
এই চেকটির সাথে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে জড়িয়ে ছড়ানো ভাইরাল চেকটির চেক নম্বর, রাউটিং নম্বর, অ্যাকাউন্ট নম্বর, ট্রানজেকশন কোড এবং স্বাক্ষরের হুবহু মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
অর্থাৎ, এ থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়, ২০২২ সালে ঢাকা আইনজীবী সমিতিকে দেওয়া প্রণোদনার চেক এডিট করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে জড়িয়ে প্রচার করা হচ্ছে।
২০২৩ সালের আগস্টে ডেইলি স্টারের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ‘মির্জা ফখরুলকে কেনা যায় না’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। সেই সময় বিষয়টি নিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'এটি আওয়ামী লীগের একটি পরিকল্পিত প্রোপাগান্ডা। আমরা আন্দোলন করছি। সরকার নিপীড়ন-নির্যাতন করে এই আন্দোলন কোনোভাবেই দমন করতে পারছে না। দেশের মানুষ এই আন্দোলনে আরও বেশি সম্পৃক্ত হয়ে পড়ছেন। তাই সরকার নানা প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে।'
তাছাড়া, কথিত ছবিতে ব্যবহৃত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাথে তাঁর সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগমের ছবিটি অনলাইনে অন্তত ২০২২ সালের ১১ জানুয়ারি থেকেই রয়েছে।
অর্থাৎ, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে জড়িয়ে ছড়ানো চেকটি ভুয়া।
এছাড়া, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে জড়িয়ে গুজবটি ২০২৩ সালে ছড়িয়ে পড়লে সেই সময় তা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানার ও ফ্যাক্টওয়াচ।
Topics:
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার খবরটি বানোয়াট
সালমানের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় রুহুল কবির
রিজভীর নামে অপপ্রচার
রুহুল কবির রিজভীর নামে ‘প্রধানমন্ত্রীর ১০০ টাকার লাঞ্চ’ ও ‘তেলের দাম বৃদ্ধি’ নিয়ে প্রচারিত মন্তব্যটি ভুয়া
বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে ছড়ানো ভিডিওটি আসলে শুটিংয়ের দৃশ্য
পথনাটকের দৃশ্যকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের এক নারীকে নির্যাতন দাবি করে প্রচার
আপনার মতামত দিন
এই পোস্টটি কি আপনার জন্য সহায়ক ছিল?
এখনো কেউ ভোট দেয়নি। আপনিই প্রথম হোন!
0%
0%
আপনার মতামত শেয়ার করুন:
| মন্তব্য সমূহ:
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!
| আরও পড়ুন
সৌদি আরব কর্তৃক শুধুমাত্র বাংলাদেশের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে বলে প্রচারিত দাবিটি বিভ্রান্তিকর।
নির্বাচনের আগে ভোটকেন্দ্রে সংঘর্ষের দৃশ্য দাবি করে ছড়ানো ভিডিওটি ভারতের
কথিত ‘লকডাউন’ নিয়ে আওয়ামীলীগের প্রোপাগান্ডা পেজ থেকে যে সকল অপপ্রচার চালানো হচ্ছে
ফটোকার্ড নকল করে ঢাকায় নিযুক্ত বর্তমান জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লটজের নামে ভুয়া মন্তব্য প্রচার
ফ্যাক্ট চেক
প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে মির্জা ফখরুলকে শেখ হাসিনার ৫০ লাখ টাকা সহায়তা দাবি করে ছড়ানো চেকটি ভুয়া
২৩ আগস্ট ২০২৬
২০২৩ সালের ভুয়া তথ্য নতুন করে প্রচার করছে আওয়ামীপন্থীরা
আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) আমলে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে চিকিৎসা সহায়তা হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ৫০ লাখ টাকা দিয়েছিলেন - এমন দাবি করে একটি ব্যাংক চেকের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে
বাংলাফ্যাক্ট যাচাই করে দেখেছে, চেকটি ভুয়া। ২০২২ সালে ঢাকা আইনজীবী সমিতিকে বার কাউন্সিলের আইনজীবী প্রণোদনা তহবিল থেকে দেওয়া একটি চেক সম্পাদনা করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে জড়িয়ে ভুয়া এই চেক তৈরি করা হয়েছে।
অনুসন্ধানের শুরুতেই চেকটিতে অসামঞ্জস্যতা চোখে পড়ে। যেমন, চেকটির এক স্থানে অ্যাকাউন্ট নম্বর 4435403007037 এবং তার নিচের লাইনে 4435403000037 লেখা রয়েছে। অর্থাৎ, একই চেকের অ্যাকাউন্ট নম্বরের শেষ চার সংখ্যা এক জায়গায় 7037 এবং অন্য জায়গায় 0037 লিখা হয়েছে।
পরবর্তীতে কথিত চেকের বিষয়ে অনুসন্ধানে রিভার্স ইমেরজ সার্চের মাধ্যমে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ওয়েবসাইটে ২০২২ সালের ২৪ মে “ঢাকা আইনজীবী সমিতিকে ছয় কোটি সত্তর লক্ষ পনের হাজার আটশত পঁচাত্তর টাকার আইনজীবী প্রণোদনার চেক প্রদানের মাধ্যমে বার কাউন্সিল হতে প্রণোদনা অর্থ বিতরণ শুরু হল” শিরোনামে প্রচারিত বিঞ্জপ্তিতে একটি চেক খুঁজে পাওয়া যায়।
এই চেকটির সাথে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে জড়িয়ে ছড়ানো ভাইরাল চেকটির চেক নম্বর, রাউটিং নম্বর, অ্যাকাউন্ট নম্বর, ট্রানজেকশন কোড এবং স্বাক্ষরের হুবহু মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
অর্থাৎ, এ থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়, ২০২২ সালে ঢাকা আইনজীবী সমিতিকে দেওয়া প্রণোদনার চেক এডিট করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে জড়িয়ে প্রচার করা হচ্ছে।
২০২৩ সালের আগস্টে ডেইলি স্টারের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ‘মির্জা ফখরুলকে কেনা যায় না’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। সেই সময় বিষয়টি নিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'এটি আওয়ামী লীগের একটি পরিকল্পিত প্রোপাগান্ডা। আমরা আন্দোলন করছি। সরকার নিপীড়ন-নির্যাতন করে এই আন্দোলন কোনোভাবেই দমন করতে পারছে না। দেশের মানুষ এই আন্দোলনে আরও বেশি সম্পৃক্ত হয়ে পড়ছেন। তাই সরকার নানা প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে।'
তাছাড়া, কথিত ছবিতে ব্যবহৃত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাথে তাঁর সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগমের ছবিটি অনলাইনে অন্তত ২০২২ সালের ১১ জানুয়ারি থেকেই রয়েছে।
অর্থাৎ, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে জড়িয়ে ছড়ানো চেকটি ভুয়া।
এছাড়া, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে জড়িয়ে গুজবটি ২০২৩ সালে ছড়িয়ে পড়লে সেই সময় তা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানার ও ফ্যাক্টওয়াচ।